Tuesday, October 8, 2019

তারুণ্য ধরে রাখতে চান? রাস্তা হতে পারে ওয়েটলিফ্টিং
তারুণ্য ধরে রাখতে চান? রাস্তা হতে পারে ওয়েটলিফ্টিং

তারুণ্য ধরে রাখতে চান? রাস্তা হতে পারে ওয়েটলিফ্টিং
walking
ওয়েটলিফ্টিং মানেই বডি বিল্ডিং এমনটা এখন আর ভাবা হয় না। ফলে যাঁরা ওয়েটলিফ্টিং করে বডিবিল্ডার হন, তাঁদের প্রতি স্পেশাল অ্যাটেনশন দেওয়ার দিন শেষ। কারণ ওয়েটলিফ্টিংয়ের কিছু সুফল জানতে পারলে আপনিও আজ থেকেই শুরু করবেন প্রতিদিনের এই কাজটি। 

রোজ সকালে দৌড়ান, বা হাঁটুন, ওয়েটলিফ্টিংয়ের থেকে ভালো কিছু নেই। বিভিন্ন দেশের হেল্থ অ্যান্ড ফিটনেস এক্সপার্ট এই বিষয়ে আজ একমত। 



১। পেশি গঠন :


ওয়েটলিফ্টিং পেশি গঠনের সবচেয়ে ভালো উপায়। তবে এই পেশি লোক দেখাতে নয়, আপনার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গকে ঠিক করে কাজ করতে সাহায্য করতে লাগে। নিয়মিত ওয়েটলিফ্টিং এর ফলে সহজে হাত পা বা অন্যান্য অঙ্গ ব্যাথা হয় না। এতে আপনার কর্মক্ষমতাও বাড়ে।

২। ডিপ্রেসন কমান:

ডিপ্রেসনে ভুগছেন বা কোনও কারণে মনখরাপ। ওয়েটলিফ্টিং এইসব কিছুর থেকেই আপনাকে মুক্তি দেবে। আধঘন্টা নিয়ম করে ওয়েটলিফ্টিং করলে দেখবেন নিজেকে খুব চাঙ্গা লাগছে, দূর হয়ে গেছে মনখারাপও। এমনকী আপনি নতুন উদ্যমে পুরোনো জিনিস ভুলে শুরু করতে পারবেন আপনার দৈনন্দিন কাজগুলো। 

ওয়েটলিফ্টিং কম বয়স থেকেই যদি নিয়মিত করা যায় তবে আপনার মন ও শরীর দুইই ভালো থাকবে। দূরে থাকবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে আসতে চাওয়া রোগগুলো, যৌবন হবে দীর্ঘস্থায়ী, আর আয়ুও সাধারণের তুলনায় বেশি হবে। তাই একগন্ডা ওষুধের বদলে শুরু করুন ওয়েটলিফ্টিং, বেছে নিন এক নতুনরকম জীবন।

৩। ডায়াবেটিস থেকে মুক্তি :

এই সমস্যা এখন মহামারির মত ছড়িয়ে পড়েছে। এমন কোনও বাড়ি নেই, যাঁর কোনও একজন সদস্যের ডায়াবেটিস নেই। ডায়াবেটিসের জন্য রোজের তালিকা থেকে বাদও গেছে অনেককিছু। ওয়েটলিফ্টিং কিন্তু এক্ষেত্রে আপনাকে মুক্তির উপায় দেবে। নিয়ম করে প্রতিদিন যদি ওয়েট লিফ্ট করেন, তবে আপনার রক্তের ইনসুলিন মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে ও সহজে ওঠানামাও করবে না। 


৪। হৃদরোগ থেকে মুক্তি :


দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে ওয়েটলিফ্টিং হৃদরোগের প্রবণতা অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। যাঁরা নিয়মিত ওয়েটলিফ্টিং করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে হৃদরোগের সম্ভাবনা সত্তর শতাংশ থেকে কমে চল্লিশ শতাংশ হয়ে গেছে। নিয়মিত ওয়েটলিফ্টিং করলে হৃদপিন্ডের কার্ডিওভাসকুলার পেশিগুলো শক্ত হয়, এদের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ফলে বয়সের ভারেও পেশিগুলো সহজে কাজে ফাঁকি দেয় না। আপনার হৃদপিন্ড সুস্থ থাকে অনেক বেশি বয়স পর্যন্ত। 

৫। হাড়ের সমস্যা ভ্যানিশ :


বয়স চল্লিশ পেরোলেই আমাদের শরীরে নানারকম রোগের লক্ষণ দেখা দেয়। তার মধ্যে হাড়ের সমস্যায় আপনি অতিষ্ঠ। এর থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় ওয়েটলিফ্টিং। বয়স হলে হাড়ের অষ্টিওপোরেসিস এক অতিপরিচিত রোগ। তাই এর থেকে মুক্তি পেতে কম বয়স থেকেই শুরু করুন ওয়েটলিফ্টিং। এর ফলে আপনার হাড় হবে শক্ত। বয়সের ভারে এই রোগগুলো সহজেই এড়াতে পারবেন। তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নেবেন আগেভাগে। 


৬। চর্বি কমান :

খাওয়াদাওয়ার অনিয়মে ফ্যাট বাড়ছে শরীরে। আর বাঙালি হলে তো কথাই নেই। ভুঁড়ি বাঙালির এক অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কিন্তু অত্যাধিক ফ্যাটের ফলে শরীরের বিভিন্ন শিরা উপশিরা ও হৃদপিন্ডে কোলেষ্টেরল জমতে থাকে যা যে কোনও ধরনের মারণরোগ ডেকে নিয়ে আসে। ফ্যাট কমানো তাই জরুরি। রোজ নিজের ইচ্ছে মত ফ্যাটজাতীয় খাবার খেয়েও শরীরের ফ্যাট কমানো যায় বা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। 

ফ্যাট কমাতে অনেকে হাঁটেন বা জগিং করে থাকেন, কিন্তু এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো ও মোক্ষম ওষুধ সেই ওয়েটলিফ্টিং। ওয়েটলিফ্টিং নিয়মিত করলে আপনার শরীরের অতিরিক্ত মেদ ঝরে যাবে মাত্র কয়েকদিনেই। শুধু তাই নয়, ওয়েটলিফ্টিং এর উপকারিতা হল আপনি ওয়েটলিফ্টিং করার পর এমনিই বসে থাকলেও আপনার শরীরে ফ্যাট বার্নিং চলতে থাকবে। এটা কিন্তু হাঁটা বা দৌড়ানোর ক্ষেত্রে হয় না। 


শুয়ে বই পড়ার অভ্যাস? শরীরের ক্ষতি হচ্ছে কি না জেনে নিন?
শুয়ে বই পড়ার অভ্যাস? শরীরের ক্ষতি হচ্ছে কি না জেনে নিন? 


শুয়ে বই পড়ার অভ্যাস? শরীরের ক্ষতি হচ্ছে কি না জেনে নিন?
শুয়ে বই পড়ার 
চোখের জন্যই আমাদের চারপাশের পৃথিবী আরো সুন্দর। চোখ সব অঙ্গের মধ্যে সবচেয়ে সেনসিটিভ অঙ্গও বটে। ফলে খুব অল্পেই জড়িয়ে পড়তে পারে যেকোন‌‌‌ দুর্ঘটনায়। খুব অল্পেই কোনওকিছু থেকে আঘাতপ্রাপ্ত হতে পারে চোখ। 

যেমন শুয়ে বই পড়া চোখের পক্ষে কতটা ক্ষতিকর, তা নিয়েও এখন‌ চলছে জোর গবেষণা। অনেক বইপ্রেমীই আছেন যাদের অভ্যাস হল বসে, শুয়ে, ট্রেনে, বাসে বই পড়া। সবসময় যে বইয়ের থেকে চোখের দূরত্ব সমান থাকে তা নয় , এমনকি সঠিক অ্যাঙ্গল বজয় রেখেও যে পড়া হয় তাও না। কিন্তু ত সত্ত্বেও বই পড়া অনেক সময়ই এড়ানো যায় না। কী কী সমস্যা হতে পারে এইভাবে বই পড়লে? ডাক্তাররা কিন্তু অনেকরকম ইঙ্গিত দিচ্ছেন।

শরীরের ক্ষতি হচ্ছে কি না জেনে নিন...



১।  চোখ লাল হওয়া: 

অনেকে ভাবেন রাতে বিছানায় শুয়ে না ঘুমিয়ে বই পড়ার কারণে চোখ লাল হয়, কিন্তু মেডিকেল সায়েন্স বলছে অন্য কথা। তাদের কথায়, চোখের পেশিগুলোয় অত্যাধিক চাপ পড়ে বলেই চোখ এমন লাল হয়ে যায়। এও অ্যাস্থেনোপিয়া রোগেরই একটি বিশেষ লক্ষণ। 

এর ফলে চোখের অশ্রুগ্ৰন্থির জল শুকিয়ে যেতে পারে। অশ্রুগ্ৰন্থির জল চোখের মণিকে আর্দ্র রাখে যাতে বাইরের কোনও ব্যাকটেরিয়া সহজে চোখে প্রবেশ করে কোনওরকম ইনফেকশন না ঘটাতে পারে। কিন্তু চোখের জল শুকিয়ে গেলে চোখের মণিতে বাইরের বায়ুর ধূলোর কণা সহজেই প্রবেশ করতে পারে, যা চোখের স্বাস্থ্যের জন্য মোটেই ভালো নয়। 


২। মাথার ব্যথা: 

শুয়ে বই পড়লে চোখে তো চাপ পড়েই, একইসঙ্গে সেই চাপ ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে মাথাতেও। বিভিন্ন নার্ভ আমাদের ব্রেনে গিয়ে ভিশনারি সেন্স তৈরি করে। তাই চোখের উপর অস্বাভাবিক চাপ পড়লে নার্ভগুলো ঠিকমত কাজ করে না। উপরন্তু চোখের পেশির কাজে বাধা তৈরী হওয়ায় তা প্রভাব ফেলে মাথার পেশিতেও। এতে কমে যেতে পারে ঘুমের পরিমাণ। 

অ্যাংজাইটি, অস্থিরতা ইত্যাদিও বাড়তে থাকে দিনের পর দিন যা কখনোই ওষুধ খেয়েই কমবার নয়। শুয়ে বই পড়লে চোখ নষ্ট হয়ে যেতে পারে বা যাবে এমন আশঙ্কার কথা চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মুখে এখনও অবধি শোনি যায়নি। তবে যথেষ্ট পরিমাণে ক্ষতিগ্ৰস্ত হওয়ার কথা বিশেষজ্ঞরা প্রায়ই বলে থাকেন। তাই বড় কোনও দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার আগেই সাবধান হওয়া ভালো।


৩।  চোখের উপর চাপ: 

বই পড়ার ক্ষেত্রে বিজ্ঞানুরা সবসময় পরামর্শ দেন বইয়ের থেকে বা যা থেকে পড়ছেন তার থেকে চোখের দূরত্ব অন্তত যেন পনেরো ইঞ্চি হয়। শুধু তাই নয় পড়ার জন্য চোখের সঙ্গে বইয়ের অ্যাঙ্গল থাকতে হবে ষাট ডিগ্ৰি। যারা বাইফোকাল চশমা পড়ে বই পড়েন তাঁদের ক্ষেত্রে ডাক্তাররা এর থেকে সামান্য কম কোণে পড়ার পরামর্শ দেন। 

শুয়ে বই পড়ার সময় বইয়ের দিকে যে কোণে তাকানো হয় তাতে বইয়ের সঙ্গে ষাট ডিগ্ৰি কোণ থাকে না। ফলে চোখের উপর চাপ পড়ে। এতে অল্পক্ষণ পড়ার পরেই ক্লান্তি হয় শরীরে। চোখের দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে আসার সম্ভাবনা থাকে, অনেকক্ষেত্রে তাও হয়ে থাকে। পাশ ফিরে শুয়ে যদি বইয়ের সঙ্গে দূরত্ব স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন তবেও কিন্তু সমস্যা থেকেই যায়।‌ 

আমাদের চোখ খোলা বন্ধ হয় চোখের চারপাশের পেশিগুলোর জন্য নিয়মিত কাজের জন্য। পাশ ফিরে হলে একদিকের পেশির উপর চাপ বেশি পড়ে। ফলে পেশিগুলো সহজে কাজ করতে পারে না। এমনকি এতে চোখের অংশে কমে যেতে পারে রক্তচলাচল। চোখের উপর অত্যাধিক চাপ পড়ায় যে অসুবিধাগুলো হয় তার পোশাকি নাম অ্যাস্থেনোপিয়া। এই নামের সঙ্গে পরিচিত না হলেও এই কুঅভ্যাসগুলোর সঙ্গে পরিচিত প্রায় সকলেই। 

Monday, October 7, 2019

অতিরিক্ত ওজন কমিয়ে ফেলতে চান ? তাহলে পালং শাকের রস পান করুন
অতিরিক্ত ওজন কমিয়ে ফেলতে চান ? তাহলে পালং শাকের রস পান করুন   


অতিরিক্ত ওজন কমিয়ে ফেলতে চান ? তাহলে পালং শাকের রস পান করুন
পালং শাকে 
অতিরিক্ত ওজন কমিয়ে ফেলতে বেশ কিছু গবেষণায়দেখা গেছে এই শাকটির অন্দরে মজুত রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। সেই সঙ্গে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় আয়রন, ফলেট, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম এবং আরও নানাবিধ ভিটামিন এবং মিনারেল, যা শরীরে প্রবেশ করার পর ওজন হ্রাসের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। 

অন্যদিকে পালং শাকে উপস্থিত ফাইবার, বহুক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখার কারণে খাবার খাওয়ার পরিমাণও কমতে থাকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই দেহের ইতিউতি জমে থাকা মেদ ঝরে যেতে সময় লাগে না। ওজন কমানোর পাশাপাশি পালং শাকে উপস্থিত নানাবিধ উপকারি উপাদানগুলি আরও নানাভাবে শারীরিক উপকারে লেগে থাকে। যেমন ধরুন



1.ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে থাকে: 


আগেও আলোচনা করা হয়েছে যে পলং শাকে রয়েছে বিপুল পরিমাণে পটাশিয়াম। এই খনিজটি শরীরে প্রবেশ করা মাত্র সোডিয়াম বা নুনের হারিয়ে যাওয়া ভারসাম্য ফিরে আসে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়। প্রসঙ্গত, পালং শাকে থাকা ফলেটও ব্লাড প্রেসার স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই তো হাই ব্লাড প্রসেরা ভুগতে থাকা রোগীদের নিয়মিত পালং শাকের রস খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা।


2.দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটে: 

এই শাকটিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে বিটা-ক্যারোটিন, লুটেইন এবং জ্যান্থিন, যা রেটিনার ক্ষমতা বাড়ানোর মধ্যে দিয়ে দৃষ্টিশক্তির উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। শুধু তাই নয়, এই শাকটিতে উপস্থিত ভিটামিন এ আই আলসার এবং ড্রাই আইয়ের মতো সমস্যা কমাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। 


3.ত্বকের অন্দরে প্রদাহ কমে: 

পালং শাকের অন্দরে রয়েছে নিয়োক্সেথিন এবং ভায়োল্যাক্সানথিন নামক দুটি অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান, যা দেহের পাশাপাশি ত্বকের অন্দরে প্রদাহের মাত্রা কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর ত্বকের ভিতরে প্রদাহের মাত্রা কমলে নানাবিধ স্কিন ডিজিজ মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কাও হ্রাস পায়।


4.হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে: 

অ্যামাইনো অ্যাসিড হল এমন একটি উপাদান, যা মেটাবলিজম রেট বাড়ানোর মধ্যে দিয়ে হজম ক্ষমতার উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর এই অ্যামাইনো অ্যাসিড প্রচুর মাত্রায় রয়েছে পালং শাকে। এবার নিশ্চয় বুঝতে পেরেছেন এই শাকটির রস নিয়মিত খেলে কী হতে পারে! 


5.ত্বক ফর্সা হয়ে ওঠে: 

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে পালং শাকে উপস্থিত ভিটামিন কে এবং ফলেট ত্বককে ফর্সা করে তোলার পাশাপাশি ডার্ক সার্কেলকে দূর করতে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এক্ষেত্রে পালং শাক দিয়ে বানানো পেস্ট যেমন মুখে লাগাতে পারেন, তেমনি পালং শাকের রস খেলেও সমান উপকার পাওয়া যায়। পালং শাকের রস বানানোর নিয়ম: হাফ কাপ পালং শাক নিয়ে তাতে অল্প করে আদা ফেলে দিতে হবে। 

এরপর তাতে পরিমাণ মতো লেবুর রস মিশিয়ে মিক্সিতে ফেলে সবকটি উপাদান ভাল করে মিশিয়ে নিয়ে রস বানিয়ে নিতে হবে। এবার তাতে অল্প করে গোলমিরচ ফেলে পরিবেশন করতে হবে। প্রসঙ্গত, পালং শাকের রস খেতে যদি ইচ্ছা না করে, তাহলে প্রতিদিন এক বাটি করে পালং শাক সেদ্ধও খেতে পারেন। কারণ এমনটা করলেও কিন্তু সমান উপকার পাওয়া যায়।




6.পেশির ক্ষমতা বাড়ে: 

জার্নাল অব কার্ডিওভাসকুলার নার্সিং- এ প্রকাশিত এক রিপোর্ট অনুসারে পালং শাকের অন্দরে লুকিয়ে থাকা নানা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, হার্টের পেশির কর্মক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সারা শরীরজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অন্যান্য পেশির শক্তি বাড়াতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে একদিকে যেমন হাইপারলিপিডেমিয়া, হার্ট ফেলিওর এবং করোনারি হার্ট ডিজিজের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে, তেমনি সার্বিকভাবে শরীরের কর্মক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়।



7.ব্রণর প্রকোপ কমে: 

পরিমাণ মতো পালং শাক নিয়ে তার সঙ্গে অল্প পরিমাণে জল মিশিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে নিন। তারপর সেই পেস্টটা ভাল করে মুখে লাগিয়ে কম করে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। সময় হয়ে গেলে মুখটা ভাল করে ধুয়ে ফেলুন। এইভাবে প্রতিদিন ত্বকের পরিচর্যা করলে ত্বকের অন্দরে জমে থাকা ক্ষতিকর উপাদানেরা বেরিয়ে যেতে শুরু করবে। সেই সঙ্গে সিবামের উৎপাদনও কমবে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ব্রণর প্রকোপ কমতে সময় লাগবে না। প্রসঙ্গত, নিয়মিত পালং শাকের রস খেলেও কিন্তু সমান উপকার পাওয়া যায়। তাই পালং শাক দিয়ে বানানো ফেসপ্যাক যদি মুখে লাগাতে ইচ্ছা না করে তাহলে পালং শাকের জুসও খেতে পারেন। 


8. ব্রেন পাওয়ার বৃদ্ধি পায়: 

পটাশিয়াম, ফলেট এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ এই শাকটি যদি প্রতিদিন খাওয়া যায়, তাহলে মস্তিষ্কের বিশেষ কিছু অংশ এতটাই শক্তিশালী হয়ে ওঠে যে স্মৃতিশক্তি মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে পটাশিয়ামের দৌলতে মনোযোগ ক্ষমতারও উন্নতি ঘটে।


9.চুল পড়ার হার কমে: 

অতিরিক্ত হারে চুল পড়ছে নাকি? তাহলে আজ থেকেই চুলের পরিচর্যায় পালং শাককে কাজে লাগাতে শুরু করুন। দেখবেন উপকার পাবেই পাবেন। আসলে এই শাকটিতে উপস্থিত আয়রন, হেয়ার ফলের মাত্রা কমানোর পাশাপাশি দেদের অন্দরে লোহিত রক্ত কণিকার ঘাটতি দূর করতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এক্ষেত্রে পালং শাকের রস বানিয়ে ভাল করে চুলে লাগিয়ে কিছু সময় রেখে দিতে হবে, সময় হয়ে গেলে ধুয়ে ফেলতে হবে চুলটা। আর যদি এইভাবে চুলের পরিচর্যা করতে মন না চায়, তাহলে নিয়মিত পালং শাকের রসও খেতে পারেন। কারণ এমনটা করলেও সমান উপকার পাওয়া যায়।

হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখার কিছু সহজ উপায়
হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখার সহজ কিছু উপায়

হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখার সহজ কিছু উপায়
হৃদযন্ত্র 
জীবনযাত্রার ধরন বদলেছে। এখন মানসিক চাপ বা এক কথায় যাকে বলে স্ট্রেস আমাদের নত্য সঙ্গী। পারিবারিক সমস্যা হোক কিংবা অর্থনৈতিক চাপ, বৈবাহিক সম্পর্কের অবনতি হোক কিংবা কাজের চাপ- একটা না থাকলে অন্যটা সঙ্গী হয়েই দাঁড়ায়। 

আর সেই কারণেই স্ট্রেস এখন সমাজবিজ্ঞানী থেকে চিকিৎসক, সকলের কাছেই অত্যন্ত দুশ্চিন্তার বিষয়। আর স্ট্রেসের প্রভাবে সবার আগে ক্ষতিগ্রস্ত হয় হার্ট বা হৃদযন্ত্র। তাই যদি আপনি স্ট্রেসে আক্রান্ত হন, অবিলম্বে কয়েকটি পদক্ষেপ করুন হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখার জন্য। 

হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখার কিছু উপায়

1.হাঁটায় জোর :

প্রতিদিন কিছুটা সময়- অন্তত ১৫ মিনিট- বরাদ্দ রাখুন হাঁটার জন্য। তবে মনে রাখবেন, এই হাঁটাটা যেন দিনের আলোতে হয়। সূর্য ডুবে যাওয়ার পর শরীরের মেটাবলিক রেট কমে যায়। তন হাঁটলে হৃদযন্ত্রের লাভ অতটাও হয় না, যতটা রোদে হাঁটলে হয়। 

2. একসারসাইজ :

একটু ফ্রিহ্যান্ড, বা একটু স্ট্রেচ শরীরের জন্য খুব ভালো। এতে যে পেশির নমনীয়তা বাড়ে, তাই নয়, রক্তচাপও নিয়ন্ত্রণে থাকে, হৃদযন্ত্রেও চাপ কম পড়ে। তবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে একসারসাইজ শুরু করা উচিত। সকলের শরীরে সব ধরনের একসারসাইজ সঠিক ভাবে কাজ করে না।

3.দলগত সময় :

কোনও না কোনও দলে নিজেকে জুড়ে নিন। হতে পারে সেটা কোনও ফিল্মওয়াচার ক্লাব, বা হাইকিং টিম। আগেকার দিনে অনেকেই ডাকটিকিট ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সপ্তাহের একটা নির্দিষ্ট সময় কাটাতেন। এখন তার পরিমাণ কমেছে। কিন্তু এই ধরনের হবি সংক্রান্ত কোনও একটা দলের সঙ্গে যুক্ত হলে স্ট্রেস কমে। ভালো সময় কাটানোর সম্ভাবনা বাড়ে। 

4.হাসি থাকুক :

দিনের একটা সময় বরাদ্দ রাখুন এমন কোনও বই বা সিনেমার জন্য, যা আপনাকে নির্মল আনন্দ দেবে। তারচেয়েও ভালো হয় যদি এমন কোনও সঙ্গীর সঙ্গে দিনের একটা সময় কাটাতে পারেন, যাঁর সঙ্গ আপনাকে খুশি রাখে, তাহলেও আপনার স্ট্রেস কমবে। কারণ হাসি শরীরের জন্য খুব উপকারি। 


5.কান্নাও থাকুক :

স্ট্রেসে আক্রান্ত হলে নিজেকে বাকি সব কিছু থেকে সরিয়ে নিয়ে একা কাঁদতে পারেন। কান্নায় স্ট্রেস অনেকটাই বেরিয়ে যায় মন থেকে। দ্রুত মন সাফ করার সহজ সমাধান এটি। চিকিৎসকরা অনেক সময়ই বাচ্চাদের জোর করে কাঁদাতে বলেন। কারণ কাঁদলে হৃদযন্ত্রের শক্তি বাড়ে। বড়দের ক্ষেত্রেও কথাটা মিথ্যে না। 

6.পোষ্যর সঙ্গ :

স্ট্রেস কমানোর ক্ষেত্রে পোষ্যর বড় ভূমিকা রয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, যাঁদের বাড়িতে পোষ্য রয়েছে, তাঁদের হৃদরোগের আশঙ্কা অন্যদের থেকে অনেকটাই কম হয়। শুধু কুকুর বা বিড়াল নয়, বাড়িতে অ্যাকোয়ারিয়াম থাকলেও, তার সামনে সময় কাটান। মন ভালো হবে। 


7.মেডিটেশন :

ঘুম থেকে উঠেই হলে ভালো, না হলে দিনের অন্য সময়ও কে নিতে পারেন মেডিটেশন বা প্রাণায়ম। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এই প্রাণায়মের কারণে। তাই হৃদযন্ত্রেও চাপ কম পড়ে। স্ট্রেস থেকে শরীর বাঁচাতে এটা হোক প্রথম পদক্ষেপ। 


8.পর্যাপ্ত ঘুম :

প্রতিদিন নিয়ম করে সাতা থেকে আট ঘণ্টা ঘুমোতেই হবে। তারচেয়ে বেশি ঘুম যেমন ভালো নয়, তেমনই তার চেয়ে কম ঘুমও স্ট্রেস বাড়িয়ে দেবে। যাঁরা স্ট্রেসে বেশি পরিমাণ আক্রান্ত, তাঁদের ক্ষেত্রে ঘুমের সময় নিয়ে কোনও কার্পন্য করা যাবে না। 

9.শারীরিক সম্পর্ক :

পরিসংখ্যান বলছে, যে সব পুরুষরা সপ্তাহে দু'দিন যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হন, তাঁদের হৃদযন্ত্রের সমস্যা অনেকটাই কমে যায়। মহিলাদের ক্ষেত্রেও কথাটা সত্যি। তবে সংখ্যার হিসেবে বিষয়টা তাঁদের ক্ষেত্রে কত, তা নিয়ে স্পষ্ট ধারণা দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা। তবে মিহলাদের ক্ষেত্রে ইস্ট্রোজেন হরমোন হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে সাহায্য করে, তা প্রমাণিত। 





শিশুর স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির কার্যকরী কিছু উপায়
শিশুর স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির কিছু  কার্যকরী উপায়

শিশুর স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির কার্যকরী উপায়
শিশুর স্মৃতিশক্তি
মা-বাবা হিসেবে সবাই চায় তার শিশুর স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি ও ভালো ফলাফল করুক। তবে কীভাবে শিশু তার লক্ষ্য অর্জন করবে সে বিষয়ে কী ভেবেছেন। এ ক্ষেত্রে কিন্তু পুষ্টিরও একটি ভূমিকা রয়েছে।

শিশুর স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির কিছু কার্যকরী উপায়

১. ডিমের কুসুম- দুই চা চামচ
২. ওটমিল চার চামচ
৩. কালো চকোলেট পাউডার এক চা চামচ
ডিমের কুসুমে রয়েছে ভিটামিন ই ও মিনারেল। এগুলোকোষে পুষ্টি জোগায়। ওটসে রয়েছে আঁশ ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। এটি বাচ্চার স্মৃতিশক্তি বাড়ায়। আর চকোলেটে রয়েছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। এটি শরীরকে চাঙ্গা রাখে।
যেভাবে তৈরি করবেন
১. পরিমাণমতো ওটস নিয়ে গরম পানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখুন। যখন দেখবেন, ওটস নরম হয়ে গেছে তখন পানি থেকে তুলে নিন।
২. এবার ডিমের কুসুম ও কালো চকোলেট ওটসের সঙ্গে মেশান।
৩. টানা তিন মাস সকালে শিশুকে এ খাবারটি খেতে দিন।

Sunday, October 6, 2019

ব্রণের সমস্যা? দ্রুত ব্রণ দূর করার সহজ উপায়

ব্রণের সমস্যা? দ্রুত ব্রণ দূর করার সহজ উপায়


ব্রণের সমস্যা? দ্রুত ব্রণ দূর করার সহজ উপায়

ব্রণের সমস্যা

ব্রণের সমস্যা ও মুখের দাগ ছোপ বাদ দিয়ে পরিষ্কার এবং ফ্রেশ আমারা সকলেই রাখতে চাই। মুখ ফর্সা ও দাগহীন থাকুক এইটা আমরা সবাই চাই। বিষেশ করে ব্রণের সমস্যাটি মহিলাদের মধ্যে বেশি লক্ষ্য করা যায় তবে এটি পুরুষদের মধ্যেও লক্ষণীয়। 

এবং এই নিয়ে তারা খুব দুশ্চিন্তা ও করে থাকেন পার্লারের অনেক প্রসাধনী ব্যাবহার করেন কিন্তু সেগুলো ত্বকের জন্য আরো বেশি ক্ষতিকর হয়ে উঠে। কিন্তু এই সমস্যা সম্পরকে তারা কিছু না বুঝেই নানা প্রসাধনী ব্যবহার করেন। প্রথমত মুখে ব্রন বা গোটা উঠার কিছু কারন রয়েছে। সেগুলো ১ বার দেখে নেওয়া যাক।


ব্রণের কারন :


১. মুখে অতিরিক্ত প্রসাধনী ব্যবহার করা।
২. মুখ পরিষ্কার না রাখা বা ময়লা জমে থাকলে।
৩. মুখ বেশি oily থাকলে।
৪. হরমোন জনিত সমস্যা থাকলেও মুখে ঘন ঘন ব্রন হয়ে থাকে।
৫. অতিরিক্ত ঘাম যাদের হয় তাদের মধ্যে ব্রণের সমস্যা বেশি দেখা দেয় কারন, ঘাম মুখের লোম কুপের মধ্যে প্রবেশ করে লোম কুপ বন্ধ করে দেয় এবং ময়লা জমে মুখে ব্রণের দেখা দেয়।
ব্রণ প্রতিকারে করনীয় :
  • অতিরিক্ত প্রসাধনী ব্যবহার থেকে বিরত থাকা।
  • নিয়মিত মুখ পরিষ্কার করা অথবা ফেস ওয়াস দিয়ে মুখ অন্তত ২-৩ বার ভালোভাবে ধোয়া। এক্ষেত্রে বাজারে কিছু ভালো ব্রান্ডের হারবাল ফেস ওয়াস আছে। হারবাল প্রোডাক্ট মুখের জন্য ভালো কেননা এতে ক্যামিকেল এর পরিমান অন্য প্রসাধনী থেকে তুলনা মাফিক সামান্য থাকে। যেমন : Himalaya Nim Face Wash, Garneer Facewash.
  • প্রতিদিন রাতে বরফের কুচি দিয়ে মুখ স্ক্রাব করা।
  • মুখে সপ্তাহে অন্তত ১ দিন নিম পাতা বেটে পেস্ট বানিয়ে ব্যবহার করা।
  • মুখ যদি বেশি তেলতেলে হয় তবে সেক্ষেত্রে চন্দন গুড়া এবং গোলাপ জল মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে পরিষ্কার মুখে লাগিয়ে নিতে পারেন। এতে অতিরিক্ত তেলতেলে ভাব দূর হবে এবং সেই সাথে মুখের দাগ ও চলে যাবে। সপ্তাহে ২ দিন উপায় টি অবলম্বন করলে ভালো ফলাফল পাবেন।
  • ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে এবং ব্রণের সমস্যা দূর করতে নিম পাতা ও লেবুর রসের উপকারীতা ব্যাপক। নিম পাতা বেটে নিয়ে তাতে ১ চামচ লেবুর রস মিশিয়ে পরিষ্কার মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। মুখের ব্রণের দাগ যাওয়ার পাশাপাশি মুখ সতেজ হবে। সপ্তাহে ১ দিন এই উপায় অবলম্বন করলে ভালো ফলাফল আশা করা যায়।


বিশেষজ্ঞ ডাঃ এর মতে ব্রন সম্পর্কিত কিছু কথা:

ব্রন সাধারণত শারিরিক বেধে হয়ে থাকে এবং পাশাপাশি কিছু অনিয়ম করার জন্যও হয়ে থাকে। যেমন এখন বেশির ভাগ মানুষ রাত জাগে এবং দেড়ি করে ঘুম থেকে উঠে। যার ফলে পর্যাপ্ত ঘুম হয় না আর হলেও তা সঠিক ভাবে দেহে ঘুমের চাহিদা পুরন করতে সক্ষম নয়। পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়ার কারনেও মুখে ব্রন বেশি হয়। 
দিত্বীয়ত, পর্যাপ্ত পানি পান না করার জন্য ও ব্রন বেশি হয়। দেহের পানির চাহিদা পুরন না হলে ব্রন দেখা দেয় এবং ব্রন ছাড়াও দেহে নানা সমস্যা হয় পানির অভাবে। প্রতিদিন অন্তত ২ লিটার পানি পান করা দরকার।


ধূমপানের অভ্যাস ছাড়ার সহজ কিছু উপায়

ধূমপানের অভ্যাস ছাড়ার সহজ কিছু উপায়

ধূমপানের অভ্যাস ছাড়ার সহজ কিছু উপায়

ধূমপান 


ধূমপানের অভ্যাস 
অন্যান্য অভ্যাসের ন্যায় একটি অভ্যাস। এই অভ্যাসটি যখন মানুষ আসক্ত হয়ে পরে তখন শারীরিক ও মানসিক উভয় ধরনের মারাত্মক ক্ষতি সাধন করে। এ কারণে এই অভ্যাস ত্যাগ করা উচিত। কিন্তু যারা ধুমপানে আসক্ত হয়েছে তারা খুব সহজে এই অভ্যাসটি ত্যাগ করতে পারে না। এর কারন হল হুটহাট করে ধূমপান ছেড়ে দিলে প্রথম প্রথম কিছু কিছু প্রক্রিয়ার সম্মুখীন হতে হয়। এই কারণে তাদের পক্ষে ধূমপান ছেড়ে দেয়া কঠিন হয়ে পরে।

ধূমপান কেন বড় নেশা এবং কেন ছাড়বেন?

ধূমপান সহজেই ছাড়তে পারবেন যদি আপনি জানেন কখন ধূমপান নেশায় পরিনত হয়। তামাকের মধ্যে থাকা নিকোটিন নামক একটি কেমিক্যাল থাকে যা এই নেশা সৃষ্টি করে। মানবদেহেকে সতেজ রাখতে দেহের ভিতর এক ধরণের হরমোন নিঃসরণ হয়। কেউ যদি ধূমপান করে তাহলে ধীরে ধীরে এই হরমোন নিঃসরণ বন্ধ হয়ে যায়।

ধূমপান করলে তামাকের এই নিকোটিন হরমোনের কাজটি করে থাকে। ফলে হুট করে ধূমপান বন্ধ করলে আপনার অস্বস্তি লাগবে, দুর্বলতা বোধ হবে। কারন দেহ থেকে সেই হরমোন ধুম্পানের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। ভয় পাওয়ার কোন কারন নেই ধূমপান বন্ধ করার কিছু দিনের মধ্যে এই হরমোন আবার আগের মত নিঃসরণ হওয়া শুরু করবে।

ধূমপান কিভাবে ছাড়বেন?

হঠাৎ করে ধূমপান ছেড়ে দিবেন না, ৯০% মানুষ হঠাৎ করে ধূমপান বন্ধ করে দেয়। এভাবে মুলত খুব কম সংখ্যক লোক সফল হয়। বাকি লোকগুলো হতাশ হয়ে পুনরায় ধূমপান শুরু করে। তাই একটু সময় নিন, মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিন, অন্যের সাহায্য নিন তারপর আস্তে আস্তে ত্যাগের চেষ্টা করুন।

জেনে নিন, আপনি কেন ধূমপান ছাড়বেন?

কেন আপনি ধূমপান ছেড়ে দেবেন সেটি নির্ধারণ করুন। শুধুমাত্র খারাপ অভ্যাস বলে তা ছেড়ে দেবেন এমনটা মনে করলে পুনরায় তা শুরু করার প্রবনতা থেকে যায়। প্রথমে আপনি নিজেকে শক্ত সংকল্পে আবদ্ধ করুন। মানসিকভাবে নিজেকে প্রস্তুত করুন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন।
ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী তামাকের পরিবর্তে অন্য উপায়ে নিকোটিন গ্রহন করতে পারেন।
নিয়মিত ব্যায়াম করার মাধ্যমে ধূমপান ছাড়তে পারেন। কারন নিয়মিত ব্যায়াম করলে ধূমপানের প্রতি চাহিদা কমে যায়।
ফলমূল ও শাকসবজি বেশি বেশি করে খান। নিকোটিনের চাহিদাকে ধামাচাপা দেয়ার জন্য অন্যান্য খাবারের প্রতি মনোযোগ বাড়িয়ে দিন।
নিজেকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন। তামাকের গন্ধ থেকে নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করুন। কেননা সিগারেটের ধোঁয়া নাকে আসলে আপনার ধূমপানের ইচ্ছা জাগতে পারে।
যেসব বিষয় মাথায় রাখবেনঃ
  • ধূমপানের ইচ্ছা বাড়িয়ে দেয় এমন কিছু থেকে দূরে থাকুন।
  • প্রথম কয়েকদিন আপনার জন্য একটু কষ্ট হবে তাই হতাশ হওয়া যাবে না। মনকে শক্ত রাখুন।

  • ধূমপায়ীদের সাথে মেলামেশা বন্ধ করুন। কারন তাদেরকে ধূমপান করতে দেখে আপনারও ইচ্ছে জাগতে পারে।
  • প্রথম দিকে খুব বেশি কষ্ট হলে একটি সিগারেট খেতে পারেন কিন্তু তা যেন নিয়মিত না হয়ে যায়।
  • প্রথম দিকে কিছু প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে যেমন,
হাত পা শির শির করতে পারে,
মাথা ব্যথা করতে পারে,
পেটের সমস্যা দেখা দিতে পারে,
ঠাণ্ডা লাগার মত অবস্থা হতে পারে,
অতিরিক্ত রাগ হতে পারে,
পর্যাপ্ত ঘুম না হতে পারে,
মনোযোগের অভাব হতে পারে,
হতাশা ও অস্বস্তি আসতে পারে,
এতে ভয় পাবেন না, কারন এসব কিছু মারাত্মক নয়, শুধুমাত্র ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে এসব প্রতিক্রিয়া নির্মূল করা সম্ভব।