Saturday, October 5, 2019

আমলকি শীতের শুরুতে নিয়মিত খাওয়া উচিত কেন ?

আমলকি  শীতের শুরুতে নিয়মিত খাওয়া উচিত কেন ?


আমলকি  শীতের শুরুতে নিয়মিত খাওয়া উচিত কেন

আমলকি

আমলকি  শীতের শুরুতে নিয়মিত খাওয়া উচিত দিনের বেলা অতটা বোঝা না গেলেও সূর্যিমামা যেই না অস্ত গেল, আমনি পারদ যাচ্ছে কমে। রাত যত বাড়ছে, তত কমছে তাপমাত্রা। এদিক সকাল হতেই গরম আসছে ফিরে। এমন পরিস্থিতিতে শরীর খারাপ যে হবেই, তা কি আর বলার অপেক্ষা রাখে। তবে এই প্রবন্ধটি যদি পড়ে ফেলেন, তাহলে হয়তো শরীর খারাপ নাও হতে পারে।


মানে! লেখাটি পড়ার সঙ্গে শরীরের ভাল-মন্দের যোগটা ঠিক কোথায়?আসলে কি জানেন বন্ধু, এই লেখায় আমলকি নিয়মিত খাওয়া শুরু করলে শরীরে প্রচুর মাত্রায় প্রবেশ ঘটবে ভিটামিন সি, ফাইবার, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, ক্যারোটিন, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট এবং সোডিয়ামের, যা ভিতর এবং বাইরে থেকে শরীরকে এতটাই চাঙ্গা করে তলে যে ঠান্ডা লাগা তো দূর, ছোট-বড় বহু রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারবে না।

 এত দূর পড়ার পর নিশ্চয় জানতে ইচ্ছা করছে সেই ফলটির সম্পর্কে, যে এই ওয়েদার চেঞ্জের মরসুমে আমাদের চাঙ্গা রাখতে পারে! তাহলে জেনে রাখুন বন্ধু, যে ফলটি খেলে এত উপকার মেলে, সেটি হল আমলকি। প্রসঙ্গত, একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে রোজের ডেয়েটে আমলকিকে জায়গা করে দিলে শরীরের নানা উপকার হয়, যেমন ধরুন

আমলকি নিয়মিত খাওয়া উচিত কেন ?


1.রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটে: 

আমলিকে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরে প্রবেশ করার পর দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে এতটাই শক্তিশালী করে তোলে যে ছোট-বড় কোনও রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। সেই সঙ্গে শরীরে উপস্থিত ক্ষতিকর টক্সিক উপাদানদেরও বার করে দেয়। ফলে আয়ু বাড়ে চোখে পরার মতো।

2.দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটে: 

সারাক্ষণ কম্পিউটার-মোবাইল ব্যবহার করার কারণে চোখের বারোটা বেজে যাক, এমনটা যদি না চান, তাহলে রোজের ডেয়েটে আমলকির থাকা মাস্ট! আসলে এই ফলটিতে উপস্থিত নানাবিধ উপকারি উপাদান শরীরে প্রবেশ করা মাত্র এমন খেল দেখায় যে দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে চোখ থেকে জল পরা, চুলকানি এবং চোখ ফুলে যাওয়ার মতো সমস্যা হওয়ার আশঙ্কাও কমে।

3. সংক্রমণের আশঙ্কা কমে:

 ভিটামিন সি হল সেই ব্রহ্মাস্ত্র, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্থাকে এতটাই মজবুত করে দেয় যে কোনও জীবাণুই সেই দেওয়াল ভেদ করে শরীরের অন্দরে প্রবেশ করতে পারে না। ফলে সংক্রমণের আশঙ্কা যেমন কমে, তেমনি ওয়েদার চেঞ্জের সময় সর্দি-কাশির ভয়ও দূর হয়। আর একথা নিশ্চয় এতক্ষণে জেনে গেছেন যে আমলকি হল ভিটামিন সি সমৃদ্ধ। তাই এই ফলটি যদি নিয়মিত কাঁচা অবস্থায় অথবা শুকিয়ে খেতে পারেন, তাহলে শরীর বাবাজিকে নিয়ে যে আর চিন্তায় থাকতে হবে না, সে কথা হলফ করে বলতে পারি।

4.ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়:

 আমলিতে এমন কিছু খনিজ এবং উপাকারি ভিটামিন আছে, যা শরীরে প্রবেশ করা মাত্র ত্বকের অন্দরে জলের ঘাটতি দূর করে, সেই সঙ্গে পুষ্টির চাহিদাও মেটাও। ফলে ধীরে ধীরে ত্বক উজ্জ্বল এবং প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। প্রসঙ্গত, আমলকি শুকিয়ে তা দিয়ে বনানো পাউডারের সঙ্গে পরিমাণ মতো দই এবং মধু মিশিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে যদি মুখে লাগাতে পারেন, তাহলে একথা হলফ করে বলতে পারি যে খাতায় কলমে আপনার বয়স বাড়লেও ত্বকের বয়স ভুলেও বাড়ার সাহস পাবে না।


5.ডায়াবেটিসের মতো রোগ ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না:

 আমলকিতে ক্রোমিয়াম নামে একটি উপাদান থাকে, যা ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ার সুযোগই পায় না। তাই সবশেষে একথা বলতেই হয় যে আমলকি খেলে কোনও ক্ষতি হয় কিনা, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত জানা না গলেও এই ফলটি যে শরীরকে সুস্থ রাখতে বিশেষ ভূমিকা নেয়, সে বিষয়ে যদিও কোনও সন্দেহ নেই।

6.ক্যান্সারের মতো মারণ রোগ দূরে থাকে: 

পরিসংখ্যান বলছে যত দিন যাচ্ছে, তত যেন ক্যান্সার আমাদের ছায়া হয়ে উঠছে। মানে মানুষ যেখানে, সেখানেই এই রোগ নিজের থাবা বসাচ্ছে। তাই তো আগামী ৩-৪ বছরে আমাদের দেশে প্রতি বছর নতুন করে এই মারণ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১৭ লক্ষে এসে পৌঁছাবে বলে মনে করছেন চিকিৎসকেরা। এমন অবস্থায় আপনার বিশ্বস্ত সেনাপতি হয়ে উঠতে পারে আমলকি। কারণ এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরে উপস্থিত ক্ষতিকর উপাদানদের বার করে দিয়ে ক্যান্সার সেলের জন্ম যাতে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সুস্থ জীবনের পথ প্রশস্ত হয়।

7.গলার ব্যথা নিমেষে কমে যায়: 

আয়ুর্বেদিক বিশেষজ্ঞদের মতে নিয়মিত এক গ্লাস আমলা রসে পরিমাণ মতো আদা এবং মধু মিশিয়ে খেলে গলার ব্যথা তো কমেই। সেই সঙ্গে কফ এবং সর্দি-কাশির প্রকোপ কমতেও সময় লাগে না। তাই তো বলি বন্ধু, এমন ঠান্ডা-গরম পরিস্থিতিতে গলা ব্যথা শুরু হলে আমলার রসকে কাজে লাগাতে দেরি করবেন না যেন


8.শরীরের বয়স কমে:

 আমলকিতে উপস্থিত একাধিক অ্যান্টি-এজিং প্রপাটিজ শরীরের উপর বয়সের চাপ পরতেই দেয় না। ফলে বয়সের কাঁটা পাঁচের ঘর পেরলেও তার আঁচে শরীরে ভেঙে যায় না। তাই শরীরকে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে যদি চনমনে রাখতে চান, তাহলে একদিনও আমলকি খেতে ভুলবেন না যেন!

9. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়:

 দেখুন বাঙালি হয়ে জন্মেছি যখন, তখন একটু পেটুক তো হবই। আর সে কারণে গ্যাস-অম্বল যে রোজের সঙ্গী হবে, তা আর নতুন কথা কী! তাই তো কব্জি ডুবিয়ে মুড়ি ঘন্ট, মাছের কালিয়া আর পাঁঠার কারি খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমলকিও যদি খেতে পারেন, তাহলে বদহজম নিয়ে আর চিন্তায় থাকতে হবে না। কারণ এই ফলটিতে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ফাইবার, যা হজম ক্ষমতার উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কোনও ধরনের পেটের রোগ ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না।




Previous Post
Next Post

post written by:

0 comments: